top of page
  • Facebook

শুধুই বই-সমালোচনা নয়

  • 3 hours ago
  • 2 min read

তার চেয়ে বেশ কিছু বেশি — 'মহাজীবন’-কে অবলম্বন করে সভ্যতার বর্তমান সংকটের মোকাবিলায় এক এডুকেটরের দায়িত্ববোধ-তাড়িত আবেগময় সাংস্কৃতিক প্রবন্ধ যেন!


কিন্তু আবেগ, উচ্ছ্বাসেই থেমে থাকে না সমালোচকের দেখা, তাঁর দেখা হয়ে ওঠে দৃষ্টি। সেই দৃষ্টিতে — বিশ্বকবি কেবল ছন্দের পূজারী, স্বপ্নাকুল কবি নন, তিনি এমন এক সংগঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী যিনি কাঁধে তুলে নিতে পারেন — গোটা জাতিকে ও তার সংস্কৃতিকে গড়ে তোলার এক বিরাট প্রজেক্ট। যে প্রজেক্টেরই এক অন্যতম পার্ট এই জীবনীনির্মাণ ।


রবীন্দ্রনাথ বর্ণিত এই মহাজীবনগুলির সমান্তরালে আলোচক আনছেন কার্লাইলের Hero-দের, আবার জীবনীগুলির রবীন্দ্রকৃত নির্মাণকে দেখাচ্ছেন ওয়ার্ডসওয়র্থের মিলটন-আহ্বানের একই চিন্তাবৃত্তে — আমাদের সামনে জ্বল জ্বল করে উঠছে আলোচকের ক্রিটিকাল ইন্সটিঙ্কটটি।

বিস্তীর্ণ সাহিত্যক্ষেত্রে সমালোচকের সাবলীল গতায়াত ইঙ্গিত দেয় 'ভারততীর্থ'-এর সেই সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের আদর্শেরও — "পশ্চিম" কবেই না "খুলিয়াছে দ্বার,/ সেথা হতে সবে আনে উপহার,/ দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে/ যাবে না ফিরে,/ এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।"


  • নৈরাজ্যের মধ্যে শৃঙ্খলা স্থাপন করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বারবার ফিরে গিয়েছেন মহাত্মাদের জীবনচর্যা আলোচনায়,

  • বর্তমানের অন্ধকারে আমাদের তাই ফিরে যেতে হবে আলোর অন্যতম উৎস রবীন্দ্রনাথে,

  • রবীন্দ্রনাথ বর্ণিত সেই মহাত্মাদের একত্রিত জীবনগাথা আমাদের সামনে হাজির করে বিতান বাবুরা রবীন্দ্রনাথের প্রজেক্টকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন


— এই সূত্রগুলো আলোচক যখন আন্ডারলাইন করতে থাকেন আমাদের কাছে তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর সংবেদনশীল শিক্ষকমনটি। যিনি একবারও উচ্চারণ করেন না 'বইটি ভালো', বরং আমাদের অনুভব করিয়ে দিতে পারেন বইটির মধ্যে এমন কিছু আছে যা আমাদের আজকের জীবনের এই ইমতেহান উত্তরণের সমাধানসূত্র হাজির করে দিতে পারে।


"উষ্ণতাহীন আমাদের হৃদয়ে শীতকালীন জড়তা" কাটাতে এই সমস্ত মহাত্মাদের, Hero-দের জীবন, তাঁদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ব্যাখ্যা, রবীন্দ্রনাথ নিজে, বিতানবাবুদের 'মহাজীবন’ প্রকাশের উদ্যোগ এবং অধ্যাপক পাত্রের সমালোচনা এইভাবে হয়ে ওঠে আমাদের অবজেক্ট লেস্‌ন্‌: ত্যাগ, শান্তি, ক্ষমা কীভাবে এক জীবন থেকে অন্য জীবনে, এক যুগ থেকে অন্য যুগে সঞ্চারিত হয়, কীভাবে সঞ্চারিত করতে হয়!

 
 
 

Comments


copy left for ever by oonmon

bottom of page